This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৫

নিখিল বোমার উপাখ্যান


২৪ নভেম্বর যাত্রাবাড়ি ১৯৭৪
, ভয়ানক বিস্ফোরন হয় নিখিল নামে আলোচিত বোমার। সে বোমার জনক নিখিল রঞ্জন সাহা। বুয়েটের মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের তরুণ লেকচারার। জাসদ করতেন। ২৬ নভেম্বর হরতালকে কেন্দ্র করে দেশকে ব্যাপক অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা গ্রহন করে জাসদ। প্রচুর বোমা দরকার। কিন্তু বোমা বানাবে কে?

সেই গুরুদায়িত্ব গ্রহন করে নিখিল। নিখিল আগে থেকেই বোমা বানায়। পদ্ধতিও ছিল স্থুল। পাতলা এক টুকরো মার্কিন কাপড় চিনি দিয়ে ভিজিয়ে এবং পরে শুকিয়ে মাড় দেয়া কাপড়ের মত করে শক্ত করা হতো। এর ভেতর ধাতব স্প্রিন্টার ঢুকিয়ে দেয়া হতো। তারপর মেশানো হতো পটাশিয়াম ক্লোরেট। জ্যাকেটের মধ্যে কয়েকটা ফোকর রাখা হতো। প্রতিটি ফোকরে অ্যম্পুলের ভেতর থাকতো সালফিউরিক এসিড। এটা ডেটোনেটরের কাজ করতো।

সলতের মধ্যে আগুন লাগিয়ে ছূড়ে দিলে তৎক্ষণাৎ কাজ করতো। আর যদি টাইম বোমা বানানোর প্রয়োজন পড়তো তবে বেলুন বা কনডম ব্যবহার করা হতো। সেক্ষেত্রে অ্যম্পুলগুলো বেলুনে রাখা হতো। হিসেব করে দেখা গেল বেলুন থেকে গড়িয়ে এসিড বেরিয়ে আসতে দু'মিনিট সময় লাগে। যদি মনে করা হতো দু'মিনিট পর বিস্ফোরন করা লাগবে তাহলে একটা বেলুন যদি চার মিনিট তাহলে দুটো বেলুন ব্যবহার করা হতো।

নিখিল তার দুই সহযোগী কাইয়ুম আর নয়নকে নিয়ে বোমা তৈরী করে যাচ্ছিল। হঠাৎ ভুলবশত একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। এরপর তৈরী হয়ে যাওয়া একে একে অনেকগুলো। কাইয়ুম ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে। মারাত্মক আহত হয় নিখিল। নয়ন নিখিলকে নিয়ে হাসপাতালে যায়।

মাইনুদ্দিন খান বাদল পরদিন তাকে দেখতে যায়। নিখিল জানায় পুলিশের তার ডায়েরী পেয়েছে। তাই বাদলকে সরে থাকতে বলেছেন। এর পরদিন নিখিল মৃত্যুবরণ করে। নিখিল হতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা পুলিশের কাছে চলে যাবে তাই জাসদই তাকে হাসপাতালে খুন করায় বিষ প্রয়োগ করে।
নিখিলের আলোচিত সৃষ্টি এবং যাদের জন্য সৃষ্টি তারাই হত্যা করে নিখিলকে। এভাবেই মৃত্যুবরণ করে নিখিল ও নিখিলের হতদরিদ্র খেতমজুর বাবার পরিবারের স্বপ্ন। নিখিলদের বাড়ি ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জিলার নবীনগর থানার বিটনগর গ্রামে।

আরেক সহকর্মী কাইয়ুম পলাশী কলোনীতে থাকতেন। রেডিওতে খবর শুনে তার মা যাত্রাবাড়ির গফুর মেম্বারের বাড়ির কাছে যান। কাইয়ুমের বাবা সরকারি চাকুরী করতেন, থাকতেনও সরকারি কোয়ার্টারে। কাইয়ুমের মা মানুষের জটলার মধ্যে দাঁড়িয়ে তার ছেলেকে দেখেছিলেন। কিন্তু কাইয়ুমের বাবার চাকরী ও কোয়ার্টার নিয়ে ঝামেলা হতে পারে এজন্য নিজের ছেলে বলে পরিচয় দেয়ার সাহস পাননি। জাসদের পক্ষ থেকেও কেউ যে এগিয়ে আসবে এমন কাউকে পাওয়া যায়নি।

অতঃপর আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তার লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। এভাবেই শেষ হয় সে সময়ের স্বৈরাচারী মুজিব সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দেয়া নিখিল বোমার উপাখ্যান।   

তথ্যসূত্রঃ-
১-জাসদের উত্থান পতনঃ অস্থির সময়ের রাজনীতি/ মহিউদ্দিন আহমদ 
২- দৈনিক ইত্তেফাক ২৬, ২৭, ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর।


রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৫

তাজউদ্দিন নামা


বাংলাদেশের মানুষ সাধারণত ধর্মপ্রিয়। এখানে তাই বামদের ভালো অবস্থান কখনোই হয়নি। তারা তাই ছলে বলে কৌশলে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে। বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানী সামরিক জান্তাদের স্বৈরাচারীর কারনে সৃষ্টি হওয়া দূরত্বকে কাজে লাগিয়ে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্নে বিভোর ছিল। তাদের এই স্বপ্নকে কাজে লাগিয়েছে ভারত। ভারত ৭১ এর আগে পরাজিত হওয়া যুদ্ধের শোধ নিতে মরিয়া ছিল। আর তাছাড়া আজন্মশত্রু দেশকে বিপদে ফেলা তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট ছিল। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র” এর প্রথম প্রজেক্ট ছিল পাকিস্তান ভাগ। 

ভারত এদেশীয় রুশপন্থী বামদের কাজে লাগিয়ে তাদের সেই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করে। আওয়ামীলীগে লুকিয়ে থাকা সিরাজুল আলম খান ছিলেন এই প্রজেক্ট বাস্তবায়নের মূল হোতা। তিনি একেক পর এক ছাত্রলীগের নানান কর্মকান্ড দিয়ে পাকিস্তান ভাগের জন্য মুজিবকে প্ররোচিত করতে থাকেন। কিন্তু মুজিব পাকিস্তান ভাগের ব্যাপারে একেবারেই অমত করেছিলেন। 

অমত না করার কোন কারণও নেই। কারণ সত্তরের নির্বাচনে “ভোটের বাক্সে লাথি মার/ বাংলাদেশ স্বাধীন করো” বলে শ্লোগান তুলে চীনপন্থী বাম নেতা ভাসানী তার রাজনৈতিক ক্যরিয়ার, জনগণের আস্থা সবই নষ্ট করেছেন। এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মুজিবের ব্যাপক জনসমর্থন বাড়ে। মুজিব জনগণের পালস বুজতে পেরেছেন। তাই বামদের ফাঁদে পা দেননি। আর তাছাড়া গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে মুজিবের জন্যই লাভ, তার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তানে যে অল্পকয়দিন গনতন্ত্র ছিল তার বেশিরভাগ সময়ে ক্ষমতায় ছিল বাঙ্গালীরাই।

এবার আসি তাজউদ্দিন প্রসঙ্গে। বেসিক্যলি তাজউদ্দিন সাহেব রুশপন্থী বাম ছিলেন। এই ব্যাপারে কমরেড তোয়াহা বলেন, এছাড়া তাজউদ্দীন পূর্বাপর কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। যদিও তাজউদ্দীন বাহ্যত: আওয়ামী লীগ করতেন কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমাদের সাথেই জড়িত ছিলেন। পার্টির সিদ্ধান্তেই তাকে আওয়ামী লীগে রাখা হয়। একবার সম্ভবত: '৬২ সালের দিকে তিনি জেল থেকে বের হয়ে আমাদের বললেন 'আর ছদ্মনামে (অর্থাৎ আওয়ামী লীগে) কাজ করতে আমার ভালো লাগছে না। আমি নিজ পার্টিতেই কাজ করবো।' তখন কেউ কেউ মনে করলো, 'থাক না আমাদের একজন আওয়ামী লীগে আছে, সেখানেই কাজ করুক না।' পরে অবশ্য পার্টিতে এ নিয়ে আলোচনাও হয়েছিল কিন্তু তাজউদ্দীনকে প্রত্যক্ষভাবে পার্টিতে নেয়া হয়নি। আমার মতে সেটা ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। তবে তাজউদ্দিন আওয়ামী লীগে থেকেও আমাদের জন্য কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগের সব তথ্য আমাদের সরবরাহ করেছেন। ইন্ডিয়াতে গিয়ে অসম-চুক্তি করার পরই তার মাঝে একটা বিক্ষিপ্তভাব এসে যায়। এরপর তিনি কিছুটা যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। তবে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর যখন আমরা তাকে তাঁবেদার সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনে করতাম, তখনও তিনি আমাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। (বারান্দার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে) প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একবার এ বারান্দায় বসে আমার সাথে আলাপ করে গেছেন। ভুল-শুদ্ধ যখন যা করেছেন সবই এসে আমাদের কাছে অকপটে বলেছেন।
তথ্যসূত্রঃ ভাষা আন্দোলন : সাতচল্লিশ থেকে বায়ান্ন / মোস্তফা কামাল

১৯৭১ সালে তার কাজ ছিল কেবল ইন্ডিয়ান এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। উপপ্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলামকে দিয়ে অসম ৭ দফা চুক্তি করে বাংলাদেশ বিক্রীর ব্যবস্থা করে ভারতে নিশ্চিন্ত জীবন যাপন করেছেন। এই বিষয়ে ৯ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর আবদুল জলিল বলেছেন দেশের শান্তিপ্রিয় জনগনকে হিংস্র দানবের মুখে ঠেলে দিয়ে কোলকাতার বালিগঞ্জে একটি আবাসিক এলাকার দোতলা বাসায় প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রীসভা সহকারে নিরাপদে তাস খেলছিলেন দেখে আমি শুধুই বিস্মিত হইনি, মনে মনে বলেছিলাম ধরনী দ্বিধা হও। 
তথ্যসূত্রঃ অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা/ মেজর জলিল, পৃঃ ৪৪

১৭ই এপ্রিল নতুন প্রবাসী সরকার গঠনের ঘোষনা দিয়ে দেশের মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে তিনি কিভাবে নিশ্চিন্ত ছিলেন তা আমরা বুঝতে পারবো যদি ভারত সরকারের সাথে তার চুক্তিগুলো একটু পড়ি। 

১- মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যারা যুদ্ধ করেছে তারাই দেশ স্বাধীন হলে প্রশাসনে নিয়োগ পাবে। বাকীরা চাকরীচ্যুত হবে। যে শূন্যপদ সৃষ্টি হবে তা ভারতীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা দ্বারা পূরণ করা হবে।

২- বাংলাদেশ ও ভারতের সশস্ত্র বাহিনী মিলে যৌথ কমান্ড গঠন করে যুদ্ধ পরিচালনা করা হবে। ভারতের সেনাপ্রধান উক্ত যৌথ কমান্ডের প্রধান হবেন। তার কমান্ড অনুসারেই যুদ্ধে শামিল হওয়া বা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

৩- স্বাধীন বাংলাদেশের কোন নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী থাকবেনা।

৪- আভ্যন্তরীন আইন-শৃংখলা রক্ষার জন্য মুক্তিবাহিনীকে কেন্দ্র করে প্যারামিলিটারি বাহিনী প্রতিষ্ঠা করা হবে।

৫- দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। কিন্তু সময়ে সময়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বানিজ্য নীতি নির্ধারণ করা হবে।

৬- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী অনির্ধারিত সময়ের জন্য বাংলাদেশে অবস্থান করা হবে।

৭- বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশ আলোচনা করে একই ধরণের পররাষ্ট্র নীতি ঠিক করবে।
তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধে "র" এবং "সি আই এ"/ মাসুদুল হক, পৃঃ ৮১

তাজউদ্দিন আহমদ এ চুক্তি স্বাক্ষর করার জন্য চাপ দিতে থাকেন সৈয়দ নজরুল ইসলামকে। নজরুল ইসলাম সাহেব নিরুপায় হয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশে 'র'/ আবু রুশদ
দুঃসময়ের কথাচিত্র সরাসরি/ ড. মাহবুবুল্লাহ ও আফতাব আহমেদ।

ভারতপ্রীতি তাজউদ্দিনকে প্রায় অন্ধ করে ফেলেছিল। সে কি আসলে আলাদা রাষ্ট্র চেয়েছিল নাকি ভারতের তত্ত্বাবধানে কোন অঙ্গরাজ্য চেয়েছিল এটা সহজেই অনুমান করা যায় তার কার্যক্রম দেখে। ১৯৭২ সালের ১লা জানুয়ারি এক আদেশবলে বাংলাদেশের মুদ্রামান ৬৬ ভাগ হ্রাস করা হয়। অথচ সে সময় বাংলাদেশের মুদ্রামান ছিল ভারত থেকে বেশি। তাজউদ্দীন দু'দেশের মুদ্রামানের বিনিময় হারের সমতা চেয়েছিলেন। লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির ফলে দ্রব্যমূল্য বেড়ে গিয়েছিল হু হু করে। অর্থনীতির ওপরও প্রভাব পড়েছিল। ৭৩- ৭৪এ দূর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। যদিও দূর্ভিক্ষের পারিপার্শ্বিক অনেক কারণ ছিল, তবে এটাও বড় একটি কারণ। 
তথ্যসূত্রঃ
ভয় পেয়ে রিপোর্ট করা থেকে বিরত থাকলাম/২২ মার্চ ২০১৬ মতিউর রহমান চৌধুরী/ দৈনিক মানবজমিন

৭১ এর পুরো বিষয়টা অনুধাবন করতে শেখ মুজিবের সময় লাগেনি। দেশে এসে ক্ষমতা গ্রহন করেই উপরোক্ত চুক্তি ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন তাজউদ্দিনের প্রতি। যে কয়টা দিন মুজিব ক্ষমতায় ছিলেন সে কয়টা বছর তাজউদ্দিন শেখ মুজিবের কাছে ঘেঁষতে পারেনি। তাজউদ্দিনের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে রুশপন্থী সমাজতন্ত্রীরাও। আওয়ামীলীগে ঘাপটি মেরে থাকা বামরা মুজিবের অপশাসনে ও অত্যাচারে বিরক্ত হয়ে আরেকটি সংগঠন জাসদ গঠন করার সময় তাজউদ্দিনের বাড়িতে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে গোপন আলোচনায় বসেন। সেখানে তাজউদ্দিন মুজিবের বিরুদ্ধে যেতে সাহস করেনি। বলেছিল আমি মুজিবের বিরুদ্ধে যেতে পারবোনা, আমার সেই সাহস নেই। তবে তোমাদের আমি সর্বাত্মক সাহায্য করবো। 

এরপর জাসদ গঠন হলো। জাসদের উপর মুজিবের নির্যাতন ক্রমেই সকল সীমা অতিক্রম করছিলো। এছাড়া রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার, জুলুম, সন্ত্রাসী জনগণকে মুজিবের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলে। তাই একমাত্র বিরোধী হিসেবে জাসদের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। জাসদের উত্থানে আরো ভয়ানকভাবে ক্ষেপে গিয়ে মুজিব জাসদের উপর অত্যাচারের স্টীমরোলার চালাতে থাকেন। জাসদ এসব কিছুর পেছনে তাজউদ্দিনকে সন্দেহ করে। সেনাবাহিনী, জনতা, জাসদ এই ত্রিপক্ষীয় জনরোষে মুজিব হত্যার ষড়যন্ত্র দানা বাঁধতে থাকে। এরই ফলশ্রুতিতে ৭৫ সালে খুন হন মুজিব। সেই সাথে নির্মমভাবে খুন হন তাজউদ্দিনসহ চার নেতা। বামপন্থী সেনা অফিসাররাই খুন করে বাম চিরজীবন আদর্শ লালন করা তাজউদ্দিনকে। 
তথ্যসূত্রঃ জাসদের উত্থানপতনঃ অস্থির সময়ের রাজনীতি / মহিউদ্দিন আহমদ।

রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৫

রুপকথা নয় সত্যকথাঃ ০১


দানশীলতার জন্য তাঁর ছিল বেশ সুনাম। একদিন তিনি স্বপ্নে দেখলেন একস্থানে উটের দুধ আর অন্যস্থানে বিষ্ঠা। এর মাঝামাঝি স্থানে কে যেন কোদাল দিয়ে খনন করছে। তাতে একটা কূপ দেখা গেল। সেখানে কেবল পানি আর পানি। তিনি ঘুম থেকে উঠলেন কিন্তু স্বপ্নের আগাগোড়া কিছুই বুঝলেন না। একই ভাবে তিনদিন স্বপ্নে দেখলেন।
তারপর তিনি এক গণকের কাছে গেলেন। গণক বললেন তোমার জন্য সম্মান অপেক্ষা করছে। তুমি সম্মানিত হবে। এর কিছুদিন পর তিনি উটের পাল নিয়ে বরাবরের মত মাঠে গেলেন। হঠাৎ একটা তীর কোথা থেকে এসে একটা উটের ওলানে গিয়ে পড়লো। দুধে ভেসে গেলো ঐ স্থান। কে তীর মারলো তিনি আর সেই চিন্তা করতে গেলেন না। তার মনে পড়ে গেলো স্বপ্নের কথা।
তিনি খেয়াল করলেন কিছুদূরে বিষ্ঠা রয়েছে। যা ঐ উট একটু আগে ত্যাগ করেছে। তিনি বুঝলেন স্বপ্নই সত্য। এখানেই পানি পাওয়া যাবে। তাঁর হাতের লাঠি দিয়ে স্থানটি চিহ্নিত করে তিনি ছুটলেন বাড়ির দিকে। কোদাল নিয়ে এসে খনন করতে লাগলেন। অল্প কিছু খনন করার পরই পাওয়া গেলো কূপটি। তিনি চিৎকার করে জানিয়ে দিলেন সবাইকে। তোমাদের আর চিন্তার কিছু নেই। আমাদের পানি সমস্যা দূর হয়ে গেলো।
এই সম্মানিত ব্যাক্তির নাম আব্দুল মুত্তালিব। আর কূপটি ইসমাইল আঃ এর জমজম কূপ। যা এতদিন পাথর দ্বারা ঢাকা পড়ে ছিল। আব্দুল মুত্তালিব কূপটিকে সুন্দর করে বাঁধিয়ে দিলেন। কূপটা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন যাতে সবাই পানি নিতে পারে।
এদিকে কিছু স্বার্থবাদী কুরাইশ নেতা কূপের মালিকানা দাবী করে বসলো। এই নিয়ে অনেক ঝগড়া-বাকবিতন্ডা শুরু হলো। পরে সবাই সিদ্ধান্ত নিলো ইরাকের বনু সা’দ গোত্রের এক মহিলা জ্যোতিষীর কাছে যাবে। তিনি যা সিদ্ধান্ত দিবেন তাই সবাই মেনে নিবেন।
আব্দুল মুত্তালিব সহ মালিকানা দাবীদাররা রওনা হলো। কিছুদূর যাওয়ার পর তারা মুরুভূমিতে পথ হারিয়ে ফেললো। তাদের কাছে ছয় দিনের খাবার ছিল। দশ দিনে সব খাবার শেষ হলো। এরপর একজন প্রস্তাব করলো আমাদের তো মৃত্যু ছাড়া অন্যকোন গতি নেই। আসো সবাই কবর খুঁড়ে শুয়ে পড়ি। সবাই কবর খুঁড়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে থাকলো।
আব্দুল মুত্তালিব তাদের বোঝালো, এভাবে শেষ হওয়া যাবেনা। আমাদের যতক্ষন পর্যন্ত শক্তি থাকবে ততক্ষন পর্যন্ত বাঁচার চেষ্টা করবো। তাছাড়া আমাদের কাছে তো উট রয়েছেই। আমরা তো সেগুলো খেয়েও বাঁচতে পারবো। তারপর তারা নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করে প্রত্যেকে আলাদাভাবে পানি খুঁজতে লাগলো। এভাবে দুদিন যাওয়ার পর আব্দুল মুত্তালিব একটি পরিত্যাক্ত কূপের সন্ধান পায়।
তাদের প্রত্যেকটি উটই ছিল মৃতপ্রায়। উটগুলো ও তারা পানি পেয়ে আবার কর্মক্ষমতা ফিরে পায়। নতুন করে বাঁচার আশা দেখতে পায়। এই সময় সব কুরাইশ নেতা জমজম কূপের ব্যাপারে নিজেদের দাবী ছেড়ে দেয়। তারা বলে হে আবদুল মুত্তালিব, খোদাই আমাদের বিরুদ্ধে এবং তোমার স্বপক্ষে ফয়সালা দিয়েছেন। খোদার কসম এখন আর জমজম নিয়ে তোমার সাথে ঝগড়া করবোনা। যে খোদা এই মুরুভূমিতে তোমাকে পানি দিয়েছেন, সেই খোদাই তোমাকে জমজম দিয়ছেন।
এরপর তারা এক বানিজ্য কাফেলার সন্ধান পায় ও মক্কায় ফিরে আসে। এই ঘটনার পর আব্দুল মুত্তালিব আল্লাহকে খুশি করার জন্য নিজের এক ছেলেকে কোরবানী করার মানত করেন। তিনি তার দশ ছেলের সবাইকে কথাটা জানালেন। সবাই মেনে নিলো। এরপর তিনি দশ জনের নাম লিখে হোবাল মুর্তির তত্ত্বাবধায়কের কাছে দিলেন। তিনি লটারী করলেন দেখলেন ৪র্থ ছেলে আবদুল্লাহর নাম উঠেছে। 
আবদুল্লাহ ছিলেন আব্দুল মুত্তালিবের ছেলেদের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল, সজ্জন, পরোপকারী। মক্কাবাসীরা সবাই তাকে ভালোবাসতো। তারা ওর কোরবানী মেনে নিতে পারে নি। সবাই আবারো লটারী করতে বললো, ২য় এবং ৩য় বারেও আবদুল্লাহর নাম উঠলো। সবাই আবারো বাধা দিল। সবচেয়ে বেশী বাধা দিল সহোদর আবু তালিব।

এরপর আব্দুল মুত্তালিব এক খ্রীস্টান মহিলা সাধকের কাছে গেলেন এবং সব খুলে বললেন। তিনি তাকে বললেন তুমি আবদুল্লাহর নাম ও দশটি উট লিখে লটারী কর। যদি আবদুল্লাহর নাম না উঠে তাহলে দশটি উট উঠে তবে দশটি উট আবদুল্লাহর বদলে কোরবানী করবে। আর যদি আবদুল্লার নাম উঠে তবে দশটি করে উট বাড়াতে থাকবে। যতক্ষন পর্যন্ত না আল্লাহ তায়ালা খুশি হন।
দশটি উটে কাজ হলোনা। বিশটি কিংবা পঞ্চাশটিতেও না। যখন আবদুল্লাহর নামের সাথে একশো উট লিখে লটারী করা হলো তখনই কেবল লটারীতে একশ উট উঠলো। মক্কাবাসীরা খুশীতে উল্লাস করতে লাগলো। আবদুল্লাহ নিশ্চিত যবাইয়ের হাত হতে আল্লাহর ইচ্ছায় বেঁচে গেলেন।
আব্দুল মুত্তালিব একশো উট জবাই করে সবার উদ্দেশ্যে রেখে দেন। সবাই যার যার ইচ্ছেমত নিয়ে যায়। তারপরও শেষ হয়নি। অন্যান্য মাংশাসী পশুরও ভুরিভোজের ব্যবস্থা হয়েছিল।
সেদিন হতে রক্তঋনের পরিমাণ হিসেবে একশো উট নির্ধারিত হলো। এর আগে ১০ টি উট ছিল। ইসলামেও এটি অব্যাহত আছে। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সঃ) বলতেন আমি দুই যবীহর (যবাইকৃত) সন্তান।
তথ্যসূত্রঃ 
১. ইবনে হিশাম
২. মুখতাছার সীরাতে রাসূল 
৩. আর রাহীকূল মাখতুম 
৪. সীরাতে সরওয়ারে আলম

শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৫

সমাজে কিভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে?


আমাদের সমাজে ইসলামপন্থীদের মাঝে এক ধরণের অবাস্তব কল্পনা বিলাস আছে। আর তা হল শুধুমাত্র সব ইসলামপন্থিরা এক প্লাটফর্মে এলেই অথবা তাদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে।

কথাটা পুরোপুরি ঠিক নয়। এরকম একটা ধারণা থেকে পাকিস্তানের উদ্ভব হয়েছে। অথচ দেখুন সেখানে ইসলামের বিজয় হয় নি, বিজয় হয়েছে জাতীয়তাবাদের।

১ম বিষয় হচ্ছে যোগ্যতা। একটি ইসলামী রাষ্ট্রের জন্য প্রথমত যেটা জরুরী তা হল ঐ রাষ্ট্র বা জনপদকে ইসলাম মোতাবেক চালানোর জন্য একদল সেক্টরভিত্তিক যোগ্য লোক তৈরী করা। যারা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও জনগণের প্রতিনিধিত্ব ভিত্তিক রাষ্ট্র চালাতে পারবে। আল্লাহর রাসূল মক্কায় অগ্নিপরীক্ষার মাধ্যমে এই ধরণের যোগ্যতা সম্পন্ন লোক তৈরী করেছেন। 

২য় বিষয় হল বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মানসিকতা পরিবর্তন করা। যাতে তারা ইসলামের শাসন ও অনুশাসন মেনে নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। বাংলাদেশের বেশীরভাগ মানুষ আল্লাহ ও তার রাসূলকে (সঃ) মনে প্রাণে বিশ্বাস করে ও মানে। তবে আল্লাহ্‌র সার্বভৌমত্ব মানতে তারা এখনো অভ্যস্ত হয় নি। এই ধরণের জনগোষ্ঠী মদিনায় তৈরী হয়েছিল। 

৩য় বিষয় হল নেতা হবেন আদর্শের মডেল। অর্থাৎ যাদের নেতৃত্বে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে তারা হতে হবে ইসলামের মডেল। তাদের দেখে জনগণ ইসলাম শিখবে। তাদের জীবনাচরণের সাথে যদি ইসলামের সামান্যতম প্রার্থ্যক্যও থাকে তাহলে তা জনগণের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে অনেকখানি। আল্লাহর রাসূল সঃ স্বয়ং নিজেই মডেল হিসেবে উপস্থাপিতহয়েছেন। সেই সাথে ছিল সাহাবাদের উন্নত চরিত্র। 

এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত হলে তবেই আল্লাহ তায়ালা আমাদের ইসলামী রাষ্ট্র দিবেন। মক্কায় ২য় বিষয়টি অর্জিত হয়নি বিধায় প্রথমেই মক্কায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। আল্লাহর রাসূল সঃ মক্কা থেকে যোগ্য নেতৃত্ব সহ মদিনায় গিয়ে তিনটি বিষয়ের সমন্বয় করাতেই সেখানে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। 

এখানে শর্টকাট কোন ওয়ে নেই যে আপনি হুট করে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করবেন। জিন্নাহ যখন দ্বিজাতিতত্ত্ব ঘোষনা করেছিলেন তখন এক সেমিনারে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো পাকিস্তানের সংবিধান কি হবে। সে দ্রুত পকেট হতে একটি ছোট কুরআন শরীফ বের করে অত্যন্ত আবেগ মেখে বলেছিলো “এটিই হবে পাকিস্তানের সংবিধান”। অথচ দেখুন আজও কি হয়েছে সেখানে কুরআনের সংবিধান? হয় নি। কারণ কুরআনকে সংবিধানে রূপ দেয়ার মত যোগ্যতা তার বা তার মন্ত্রীসভার কারো ছিল না।

ইসলামপন্থীদের জন্যতো বটেই, সবার জন্যই ঐক্য একটা বড় শক্তি। ঐক্য থাকলে আমাদের অনেক কাজ সহজ হয়ে যায়। তবে ঐক্য হওয়া উচিত আল্লাহর জন্য। দ্বীনের জন্য। জাতীয়তাবাদের ঐক্য নয়। সঠিক পন্থায় ঐক্যের জন্য যোগ্যতা দরকার। আমাদের মধ্যে অনেক মতপার্থক্য থাকে। আমরা যদি একটু ধৈর্য্য ধরে অপরের কথা শুনি, অপরের মতামত শুনি, খুব শালীন ভাষায় দ্বিমত করি বা নিজের মতামত উপস্থাপন করি তাহলেই নিজেদের সমস্যাগুলো কেটে যায়। কোন সম্প্রদায়কে ম্যনশন দোষারোপ করা ঐক্যের জন্য ভয়ানক হুমকি।

আসুন যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করি। নিজ নিজ সেক্টরে অথবা আমাদের ইন্টারেস্টের জায়গাগুলোতে আমরাই যাতে নেতৃত্ব দিতে পারি সেই ব্যবস্থা আমাদেরই করতে হবে। এভাবেই একদিন ইসলাম নেতৃত্বের আসনে আসীন হবে ইনশাআল্লাহ। 

আর সেই সাথে আমাদের সবার কমন দায়িত্ব, আমরা আমাদের যার যার অবস্থান হতে আমাদের দাওয়াতকে আরো গতিশীল করবো। মানুষকে আল্লাহ্‌র সার্বভৌমত্বের দিকে আহ্বান করবো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সমগ্র প্রচেষ্টা কে কবুল করে নিন। আমিন।


বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৫

সাক্ষী হয়ে থাকা কিছু ঘটনাঃ আমাদের প্রেরণা


দাদাজান মৃত্যুবরণ করলেন। তখন আমার মিডটার্ম পরিক্ষা চলছিলো। দ্রুত বিভাগীয় প্রধানকে জানালাম। তিনি আমকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন যাও, বাড়ি যাও। তোমার পরীক্ষা আমি দেখবো। দাদাজানের পাশে আসলাম। অনেক চেষ্টা করেও কাঁদতে পারলাম না। কেমন যেন সব স্বাভাবিক মনে হয়।
নিজেকে আগে থেকেই কাঠখোট্টা বলে জানতাম। কিন্তু তাই বলে এতটা!! এই ঘটনার পর নিজেকে পাষান মনে হতে থাকে। অনেকের নাটক সিনেমা দেখেও চোখ ভিজে। আমার তো সেরকম হওয়ার প্রশ্নই আসে না। কিন্তু আমি সাক্ষী হয়ে গিয়েছি এমন সব ঘটনার যেগুলো মনে হলে এখনো কাঁদি। চোখ থেকে অবিরল পানি পড়ে।
পাঁচলাইশ থানায় এক মধ্যবয়সী মা পা জড়িয়ে আছে ওসির। স্যার, স্যার, স্যারগো, আমার পোলাটারে আর মারিয়েন না। আপনার পায়ে পড়ি। স্যার আপনি যেমনে বলেন সেভাবে হবে আমি পোলারে আর শহরে রাখুম না। স্যার, স্যারগো আর মারবেন না। আমারে মারেন, আমারে মারেন। পোলাটারে ছাড়ি দেন।
বিরক্ত পুলিশ পা ঝাড়া দেয়, মা ছুটে পড়ে তিন হাত দূরে। মায়ের দেরী হয় না। আবার উঠে দৌড়ে যায়। লক্ষ্য পুলিশের পা। স্যারগো আপনে আমার পোলারে বাঁচান। ওরা মেরে ফেলতেছে। মা কান্না করছে নিচতলায়। তিনতলায় ছেলের উপর অমানুষিক নির্যাতন চলছে। মা – ছেলের কান্নায় জাহান্নাম হয়ে গেলো সব।
..................
আব্বু, তুমি আমাকে বলতা, মিথ্যা বলা খুব খারাপ, আল্লাহ শাস্তি দেন। আর তুমি সমানে মিথ্যা বলছো। তুমি বলেছো আমার পরীক্ষার সময় বাসায় আসবে, আমাকে স্কুলে নিয়ে যাবে। তুমি আসোনি। এরপর বলেছো, রোযায় আসবে, আসোনি। তারপর বলেছো ঈদে আসবে, তুমি এতটাই খারাপ হয়েছো, তুমি ঈদেও আসোনি। আমরা সবাই খুব কান্না করেছি...।
তুমি এখানে কি কর? আমাদের কথা মনে পড়ে না?
ছোট্ট মেয়ে বাবাকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলছে, দুজনের মাঝখানে হাসিনার জিন্দানখানার লোহার মোটা মোটা শিক।
বাবা বলছে, আম্মু তুমি আমাকে মাফ করে দাও, আমি আর মিথ্যা বলবো না। ছোট্ট মেয়েটির মা কোন কথা বলেন না। শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছেন। এক সময় বাবা মেয়ের কথাগুলো কান্নায় রূপান্তরিত হয়। তিনজনেই কাঁদছেন। কে কাকে সান্ত্বনা দিবে? সান্ত্বনা দেয়ার কেউ নেই।
..................
ছেলেকে কোর্টে তুলেছে তাই মা বাসা থেকে খাবার নিয়ে এলেন ছেলেকে একটু নিজ হাতে খাইয়ে দিবেন বলে। কিন্তু পুলিশ কিছুতেই তা হতে দিচ্ছে না। মা পুলিশের পিছ পিছ দৌড়াচ্ছেন। ছেলেকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছেলে মায়ের দূর্দশা দেখে বললো, মা আমার পেট জ্যাম। খেতে পারবো না। জেলখানা থেকে আসার সময় অনেক খেয়ে এসেছি।
মা হাল ছাড়েন না। দৌড়াতেই থাকেন। একবার এর কাছে একবার ওর কাছে। ছেলে দূর থেকে মাকে বারণ করে। মা বলেন, বাবা তোর পছন্দের কাচ্চি নিয়ে আসছি। ছেলে মাকে থামানোর জন্য বলে কাচ্চি খাবো না, গ্যাষ্ট্রিক হবে। মা আর্তনাদ করে উঠেন, বাবা তোরে ওরা খেতে দেয় না? তোর তো গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যা ছিল না। ছেলে কি বলবে, বুঝে উঠতে পারে না।
মায়ের ক্রমাগত বিরক্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠে কয়েকজন পুলিশ। গালি দিয়ে তারা মায়ের হাত থেকে কেড়ে নেয় খাবার। দূরে নিক্ষেপ করে। সব বিরিয়ানি ছড়িয়ে পড়ে রাস্তায়। কয়েকটা কুকুর দৌড়ে এসে খাবার খাওয়া শুরু করে। মা কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে যান। একবার কুকুরগুলোর দিকে আরেকবার ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকেন আর কাঁদতে থাকেন।
ছেলে লজ্জায় অপমানে ঠোঁট কামড়ে কাঁদতে থাকে। চিৎকার করে বলতে থাকে, মা তুমি আর কোনদিন কোর্টে আসবা না। কোনদিন না। কখনো না।
...........................
কোর্ট থেকে ছেলেকে নিয়ে যাচ্ছে জেলখানায়। মা ছেলের বিদায় হল। ছেলে মাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে। কিন্তু মায়ের মন কিছুই মানছে না। কাঁদতে থাকেন, আর বলতে থাকেন, আমার ছেলে কোন অপরাধ করে নি। সে চোর ও না ডাকাতও না, তবে কেন তাকে বন্দি করা হল?
হাতকড়া পরিয়ে, কোমরে দড়ি দিয়ে বেঁধে প্রিজন ভ্যানে তোলা হল। মা-ছেলের কথা তবু শেষ হয় না। এক পর্যায়ে গাড়ি চলতে শুরু করে। মাও দৌড়াতে থাকেন। ছেলে মা কে বারণ করে কিন্তু কে শোনে কার কথা!!
মা দৌড়াতে থাকেন। হোঁচট খেয়ে আছড়ে পড়েন রাস্তায়। উঠে আবার দৌড়াতে থাকেন কিছুদূর গিয়ে আবার আছড়ে পড়েন। আর উঠতে পারেন না। ততক্ষনে গাড়ি অনেকদূর। মা তাকিয়ে থাকেন। রাস্তায় বসে কাঁদতে থাকেন মা। আর প্রিজন ভ্যানে কাঁদতে থাকেন ছেলে।
.........................
এইরকম দুই চারটা নয়, শত শত ঘটনা আছে। তবে আমরা হতাশ নই। জানি একদিন জুলুমের অবসান হবে। ইনশাল্লাহ। আসুন আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ দিয়ে চেষ্টা করি। বাংলাদেশের মানুষকে মহান আল্লাহ তায়ালার সার্বভৌমত্ব মেনে নেয়ার আহবান করি। বিজয় আমাদেরই। মুমিনদের কোন পরাজয় নেই।

এরশাদ কাহিনী


লে. জে. হু. মু. এরশাদ ১৯৫২ সালে যোগ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। দীর্ঘ তেরো বছর চাকুরীর পর ১৯৬৫ তে পান মেজর পদ। একাত্তরের পুরো সময় জুড়ে ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানে। মাঝখানে ছুটি নিয়ে পূর্বপাকিস্তান এসেছিলেন। যুদ্ধে যোগ না দিয়ে আবার ফিরে যান পশ্চিম পাকিস্তানে। তিনি সেসময় দায়িত্ব পালন করেন কোর্ট মার্শালে।

স্বাধীনতার পরপরই তিনি ফিরে আসেন নি। তিনি এসেছেন ৭৩ সালে। সেই বছরই যোগ দেন বাংলাদেশ আর্মিতে। এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন পাকিস্তানের প্রতি একান্ত অনুগত এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী কিভাবে এতদিন পরে এসে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারে? এর উত্তর অনেক হতে পারে, তবে আমার কাছে যেটা সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য মনে হয় তাহলো মুজিব ফ্রিডম ফাইটার সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিশ্বাস করতোনা। তাই সে সেনাবাহিনীতে কিছু লোককে চাচ্ছিল যারা একান্তই তার হয়ে কাজ করবেন। এইরকম অনেক লোককে রিক্রুটমেন্ট করেছেন মুজিব। তার মধ্যে অন্যতম এরশাদ।

৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অন্যরকম সাহস নিয়ে আসছিল। তারা এখন ক্যু করতে ভয় পায়না। তাই ৭৫ এ কয়েকটি ক্যু করে ফ্রিডম ফাইটাররা। এই বিষয়টা মুজিবের মত জিয়াও তার বিবেচনায় এনেছেন। ক্ষমতা অধিগ্রহন করার পর জিয়া কর্ণেল তাহের সহ চারশত ছয়জন ফ্রিডম ফাইটারকে হত্যা করেছেন যৌক্তিক কারনেই। যার ফলে ক্যু এর ভয় জিয়াকে তাড়া করে ফিরতো।

মুজিব হত্যাকান্ডের সময় এরশাদ এক প্রশিক্ষনে ভারতে ছিলেন। জিয়া ক্ষমতা গ্রহনের পর তাকে ভারত থেকে নিয়ে আসেন। তাকে রাতারাতি মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করে উপ-সেনাপ্রধানের পদে অধিষ্ঠিত করেন। অথচ সব দিক দিয়ে এই বিবেচনায় এগিয়ে ছিলেন মেজর মঞ্জুর। জিয়ার সাথে কোন দন্ধই ছিলনা মঞ্জুরের। হয়তো ফ্রিডম ফাইটার বলেই জিয়া রিস্ক নিতে চাননি।

ইহাই বাংলাদেশের ফ্রিডম ফাইটার। কেউ কাউরে বিশ্বাস করেনা। কিভাবে করবে? তারা সবাইতো বিশ্বাস ভঙ্গকারী। সিদ্ধান্তটি নিঃসন্দেহে খারাপ। যোগ্য লোককে বঞ্চিত করে এরশাদের মত অযোগ্য, চরিত্রহীন ও করাপ্ট লোককে দায়িত্ব প্রদান কোনভাবেই ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারেনা। এর চরম মূল্য দিতে হয়েছে জিয়াকে। বিপুল জনপ্রিয়তাও তাকে সেইভ করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার লোভ এরশাদকে প্রায় পাগল করে দিয়েছিল। সেই সাথে আছে মাথা গরম ফ্রিডম ফাইটাররা।

জিয়ার এক ভুলে দেশ ধূর্ত স্বৈরাচারের কবলে পড়েছে ৯ বছর। তার ছেলে তারেকের প্রায় সেরকম ভুলে দেশ ভয়ংকর ড্রাকুলার কবলে পড়ে আছে। কবে উদ্ধার হবে আল্লাহ জানে।

বাংলাদেশ নিয়ে আমেরিকান ষড়যন্ত্র


অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে খেলতে আসেনি, এটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য যতটা ভালো হয়েছে তার চাইতে বেশী ভালো হয়েছে বাংলাদেশের জন্য। আমার এখন স্পষ্ট মনে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের উপর হামলা করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে একটা ষড়যন্ত্র হচ্ছিল। যেভাবেই হোক অস্ট্রেলিয়া সেটা টের পেয়ে তাদের ক্রিকেট দলকে পাঠায়নি।
আমেরিকা যেহেতু উল্লফনটা বেশী করছে সেহেতু আমেরিকা যুক্ত আছে এই ষড়যন্ত্রের সাথে এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এই বিষয়টা আমার মনে হয়েছে যেদিন ইতালির নাগরিক নিহত হয়েছে। প্রথম আলোসহ অনেক পত্রিকায় নিউজ হয়েছে আমেরিকান নাগরিক নিহত। তারমানে একটা পক্ষ জানে একজন আমেরিকান খুন হবে। পরে দেখা গেল এটা ইতালির নাগরিক। সম্ভবত খুনিদের ভুলে বা ছক ঠিক করতে পারেনি বলে আমেরিকানের স্থলে ঐ ইতালিয় নিহত হয়েছেন।
এখানে আই এস জড়িত এটা আমেরিকার এক থার্ড ক্লাস নিউজ পোর্টাল বলেছে। ব্যাস সারাবিশ্বে এটা রটে গেলো। দেখা গেলো একজন ইতালীয় হত্যা দিয়ে পরিস্থিতি তাদের পক্ষে আনা যাবেনা। তাই আরেকজন বিদেশী খুন করা হয়েছে। ওরা বেচে বেচে এমন লোককে খুন করলো যিনি ইতিমধ্যে মুসলিম হয়েছেন।
একজন মুসলিম খুন করা হলো, আবার ঐ খুনের দায়ে মুসলিমদেরও ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। ঐ খুনের স্বীকার করা টুইটার বার্তাও রয়টার্স আবিষ্কার করে। গতকাল আবার জাপান বললো, আই এস'র অনলাইন রেডিও নাকি স্বীকার করেছে তারা হোসিও কুনিকে হত্যা করেছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে, জাপান আই এস বিরোধী জোটে অংশগ্রহন করেছে তাই তারা এই মুসলিম লোকটিকে হত্যা করেছে। কোথায় সিরিয়া, ইরাক আর কোথায় বাংলাদেশে অবস্থান করা হোসি কুনি !!
বাংলাদেশে আমেরিকা-ইসরাঈল পরিচালিত আই এস নামক সন্ত্রাসীদের কোন স্থান হবেনা যেমনিভাবে হয়নি ভারত পরিচালিত জেএমবি'র স্থান, ইনশাআল্লাহ্‌। এদেশের বেশীরভাগ মানুষ প্র্যাক্টিসিং মুসলিম না হলেও ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞান তাদের মধ্যে আছে। তাই এদেশে কিছু দুষ্কৃতিকারী ইসলামের নামে সন্ত্রাসী করে ইসলামের অপমান করে পার পাবেনা।
আমরা ২০০৫ সালে দেশের সবক'টি মসজিদ থেকে যেভাবে এসব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছি আবারো সেভাবে আমরা এসব সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করবো, ইনশাআল্লাহ্‌।