This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

ধান্ধা

১.
-- দোস্ত দেশের যা অবস্থা ধান্ধা- মান্ধা তো সব বন্ধ।
-- শালার খালেদা যা শুরু করছে। সরকার পইড়া গেলে তো পলান লাগবো।
-- হ দোস্ত যে ক’দিন আছি আরো কিছু কামানো লাগবো
-- বিদেশ যাইবার পয়সা তো অন্তত তুলতে হইবো
-- আমার মাথায় একখান জোশ বুদ্ধি আইছে।
-- কি বুদ্ধি দোস্ত?
-- শিবির ধরায়া দিমু। লাখ টাকা পামু।
-- আরে শিবির কই থাকে এডা তার বাপেরাই জানে না, তুই ক্যামনে বাহির করবি।
-- আরে বেটা ! তোর মাথায় একটু ঘিলু কম আছে। জীবনে কোন সলিড কাম করছি বলে তো আমার জানা নাই। এটা সলিড হওনের কি দরকার?
-- বুঝলাম না।
-- আরে রাস্তা থেকে সুন্দর, দাঁড়িওয়ালা হইলে আরো ভালা। এরকম কিছু পোলারে ধইরা সুমনের কক্টেল ধরায়া দিমু। ব্যাস! ভাই পুলিশ ডাইকা দিবে।
-- ওরে জোশ মাম্মা! এমন বুদ্ধি লই ঘুমাস ক্যামনে?
-- চল! ভাইর কাছে চল।
(কথোপকোথন গুলো দুই ছাত্রলীগ কর্মীর)
২.
তিন দিন ধরে কোচিং এ যায় নি মাসুদ। মা তাকে বের হতে দেয় না। রাস্তা-ঘাটে কখন কি ঘটে। দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ। মাসুদ তার বন্ধুদের ফোন করে পড়ার খোঁজখবর করে। পরদিন সে তার মাকে বলে, সবাই পড়ছে। আমি এভাবে কোচিং এ না গেলে পিছিয়ে পড়বো। আর তাছাড়া গাড়ি তো সব চলছে। যা দূর্ঘটনা ঘটছে সব ঢাকার বাইরে। অবশেষে তার মা তাকে যেতে দেয়।
কোচিং থেকে বের হলেই মসজিদ। মাসুদ বের হয়েই আসরের আযান শুনলো। চিন্তা করলো, নামাযটা পড়ে যাই। যেই মসজিদ থেকে বের হলো অমনি দুইজন লোক তাকে ডেকে রাস্তার পাশে নিয়ে গেলো। হঠাৎ একটি মাইক্রোবাস এসে তাকে তুলে নিয়ে গেলো।
মাসুদের মা অপেক্ষা করছেন কখন তার ছেলে ফিরবে। সন্ধ্যা হয়ে গেলো অথচ সে ফিরলো না। মোবাইলটাও বন্ধ। একটি কল আসলো মাসুদের মায়ের নাম্বারে। থানা থেকে বলা হল আপনার ছেলে ককটেল সহ ধরা পড়েছে।
পরদিন মাসুদের বাবা পত্রিকা হাতে স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন। মাসুদের হাতবাঁধা ছবি আর ককটেল গুলোর দিকে তাকিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে আছেন। বুঝতে পারছেন না কি থেকে কি হয়ে গেলো। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মাসুদের মা।
৩.
ছাত্রলীগ থানা সেক্রেটারী মন্টুর আস্তানায় চলছে মদের ফোয়ারা উৎসবের আমেজ। মধ্যমণি রিংকু। কারণ তার এই অসাধারণ বুদ্ধিতে নতুন ধান্ধার খোঁজ পাওয়া গেছে। আজকের ইনকামের অর্ধেকই রিংকুকে দিয়ে হল। রিংকু কৃতজ্ঞতায় মন্টুর পা ধরে সালাম করলো। উৎসব নাচগানের পাশাপাশি চলছে ভবিষ্যত পরিকল্পনা।
সুমনকে বললো দুই’শ ককটেল বানাতে। সেতুকে বললো পঞ্চাশটা পেট্রোল বোমা বানাতে। রিংকু বললো, ওস্তাদ এতগুলান দিয়ে কাম কি? একটা দুইটা হলেও তো হয়। মন্টু বললো,
প্রথমে আমরা কোন এক এলাকায় প্রচুর ককটেল ফাটাবো। দুইটা বাস পোড়া দিব। তারপর পুলিশ ঐ এলাকার শিবির ধরার জন্য উইঠা পইড়া লাইগবো। তখনই আমরা গোবেচারা কাউকে আবার ধইরা পুলিশেরে দিমু। ব্যাস এলাকা ঠান্ডা হইয়া যাইবো। এই এলাকায় আমরা আর ককটেল ফাটামু না। মিডিয়া মনে কইরবো ঐ বেচারা পোলাই মূল হোতা। হেই এরেস্ট তো এলাকা ঠান্ডা।
আর প্রতিটা কাজে চেষ্টা করতে হবে, দুই একটা মানুষ যাতে মারা পড়ে। মানুষ না মরলে কাম হইবো না। মানুষ না মরলে মিডিয়া কাভারেজ পাওন যাইবো না।
শিবির-বিএনপিরাও তো ফুটায়। সেগুলাতে মানুষ মরে না। মিডিয়ায়ও আসে না।
সুমন বলে উঠলো, ভাই পুলিশ তো ঝামেলা কইরতে পারে। মন্টু অট্টহাসি দিয়ে বললো, আরে ব্যাটা পুলিশ ঝামেলা করলে আমি আছি ক্যান? পুলিশ আমার পকেটে থাকে। চিন্তা করিস না।
৪.
থানা সভাপতি মারুফের মুখ অন্ধকার। ঝাড়ছে তার সাঙ্গপাঙ্গদের। মন্টু সমানে ধান্ধা কইরা যাইতেছে। কি করস তোরা? কোন কামের না তোরা ...... পুতেরা!!
কবির হন্তদন্ত হয়ে ঢুকে।
-- কি হইছেরে কবির? যে কামে পাঠাইছি, হইছে?
-- ওস্তাদ এক্কেরে পাকা খবর নিয়া আসছি।
কবির মন্টুদের সব পরিকল্পনা জানায় মারুফকে।
মারুফের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠে। পাইছি। ধান্ধা পাইছি। এবার শুধু ধান্ধা না। মন্টুরে ভ্যানিশ করার উপায় পাইছি। কবির তুই যা। কাল মন্টুরা কই কই ককটেল ফাটাইবো একটু খোঁজখবর কর।
৫.
পরদিন কিছু পত্রিকার নিউজ। ককটেল ফাটানো ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের সময় ছাত্রলীগ সেক্রেটারী মন্টুসহ ৫ জন হাতেনাতে ধৃত। মারুফ সব পত্রিকাকে ম্যানেজ করতে পারে নি। সরকারের এসব নিউজ চাপানোর ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আছে।

বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

অনিবার্য বিপ্লব

(শহীদ মোল্লাহ আব্দুল কাদের রাহিমাহুল্লাহ স্মরনে)

আমার সমগ্র সত্তা আজ হাহাকার করছে
না, কোন নারীর জন্য নয়।
কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির জন্য নয়
এক সর্বাত্মক বিপ্লবের জন্য।
আমার চোখ দুটো আজ সূর্য দেখছে
এক বিপ্লবস্নাত সোনালী সূর্য
আমার এতদিনকার স্বপ্ন গুলো গতি হারিয়ে ফেলছে
এলোমেলো হয়ে বলছে, বিপ্লব চাই ! বিপ্লব !!
আমার শ্রবনেন্দ্রিয় চিৎকার করে বলছে
আমি আর পারছি না
আমি শুনতে পাচ্ছি, আমি শুনতে পাচ্ছি।
এক অনিবার্য বিপ্লবের প্রতিধ্বনি।
আমার নাসারন্ধ্র উন্মাদের মত বলছে
আমি এক বিপ্লবের কথা বলছি,
যার থেকে আসে শুধু তাজা রক্তের গন্ধ।
আমি কোনভাবেই তা অতিক্রম করতে পারছি না।
আমার সমগ্র লোহিত কণিকা আর্তনাদ করছে
বলছে, আমরা আর পারছি না
আমাদের মুক্ত করে দাও
রঞ্জিত করে দেব কালো রাজপথ ।।
এতক্ষণে বিবেক বলে উঠলো
ঐ তো ঐ শুরু হয়ে গেল
কাদের মোল্লাহ শুরু করে দিল
তুমি যাচ্ছ কবে?

বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৫

শপথ (শহীদ নুরুল ইসলাম শাহিন ভাইয়ের স্মরনে)



১.


কবির ক্লাসের মধ্যম মানের ছাত্র। কয়েকদিন ক্লাসে আসছে না সে। এই বিষয়টা নজর এড়ায়নি অধ্যাপক নুরুল ইসলাম সাহেবের। অধ্যাপক সাহেবের ছেলেপুলে নেই। ইসলামীয়া কলেজের সব ছাত্রকেই উনি সন্তানের মত করে দেখেন। বাজারে মুরগী কিনতে গিয়েই দেখা কবিরের সাথে। হাতে দুটো মুরগী। বিক্রী করার জন্যই এনেছে বোধহয়। কিন্তু স্যারকে দেখে সহসা এমন ভাব করলো যেন সে মুরগী দুটো কিনেছে। অধ্যাপক সাহেব সব বুঝেও না বুঝার ভান করলেন।


তাকে ডেকে বললেন, তুমি কয়দিন কলেজে যাচ্ছ না। ঘটনা কি? কবির আমতা আমতা করে বললো স্যার,ফরম ফিলাপের টাকা যোগাড় হয় নি। পরীক্ষা আগামী বার দেব। অধ্যাপক সাহেব বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে। মুরগী দুটোতো বেশ সুন্দর। শোন আমার জরুরী কাজ আছে এই বলে তাকে এক হাজার টাকা গুঁজে দিয়ে বললো, তুমি আবার দুটো কিনে নিও। তোমারগুলো আমাকে দিয়ে দাও। এই বলে তিনি তার হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হাঁটা শুরু করলেন। বললেন কাল ক্লাসে এসে বাকী টাকা দিয়ে যাবে।


বাসায় থাকতে পারেন না অধ্যাপক সাহেব। তিনি জামায়াত করেন। তাই পুলিশ সর্বদা তাড়িয়ে বেড়ায়। একবার গ্রেপ্তারও করেছিলো। মাস চারেকের মত ছিলেন কারাগারে। আজ তিনি বাসায় যাচ্ছেন, তাই অনেক বাজার করলেন। বাসায় গিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকলেন। তাঁর স্ত্রী তাঁকে প্রায় ঠেলে ঘর থেকে বের করে দেন কারণ যে কোন সময় পুলিশ চলে আসবে। স্ত্রীকে সালাম জানিয়ে অধ্যাপক সাহেব একটি বাজারের একটি ভাঙ্গা দোকানের দিকে যাচ্ছেন। সেখানেই তিনি পালিয়ে থাকেন।


২.

কবিরের আর্থিক দৈন্যতার কথা তিনি আগে থেকেই জানতেন। তাকে কয়েকবার সহযোগিতা করতে চেয়েছেন। কিন্তু কবিরের প্রবল আত্মসম্মান বোধ থাকায় তিনি পারেন নি। তাই কবিরকে বাকী টাকা ফেরত দিতে বলে ক্লাসে ডেকে নিয়ে আসছেন। যথারীতি কবির ক্লাসে আসলো, কবিরকে বুঝিয়ে তিনি পরীক্ষা দিতে রাজী করালেন। টাকার ব্যবস্থা করলেন তিনি। আর খুব শক্ত করে বলে বিষয়টি যাতে কেউ না জানে।


প্রায় মাসখানেক অধ্যাপক সাহেব বাসায় যেতে পারেন নি, পুলিশের সমস্যা তো আছেই তাছাড়া এই মাসে ওনার কাজের চাপও ছিল বেশী। আগে কখনোই তিনি বাইরে খেতেন না। দুপুরের খাবারও বাসা থেকে নিয়ে যেতেন। অথচ সেই নুরুল ইসলাম সাহেব গত এক মাস বাসায় আসেন নি। মিসেস নুরুল ইসলাম এই নিয়ে খুব চিন্তায় থাকেন। ইচ্ছে করে অধ্যাপক সাহেবের খাবার রান্না করে পাঠিয়ে দিতে। কিন্তু নিরাপত্তা জনিত কারণে পারা যায় না।


মিসেস নুরুল ইসলাম খুব চাপাচাপি করে একদিন বিকেলে ডেকে নিয়ে আসলেন তাকে। বললেন কি খাও না খাও। একটা দিন ভালো-মন্দ খাও। জমানো অনেক কথা বলতে বলতে রাত হয়ে গিয়েছে অনেক বেশী। তাই অধ্যাপক সাহেব আজ বাসায় থেকে গেলেন। মধ্যরাতে দরজায় লাথির শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো।


৩.

যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে রাত হয়। কথাটাই ঠিক। যেদিন তিনি বাসায় সে দিনই পুলিশ আসলো। হাতে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে গেলো। তখন রাত দুটো। মিসেস নুরুল ইসলাম পুলিশের গাড়ির সাথে সাথে চললেন CNG তে চড়ে। থানায় ওসির আর শুধু পা ধরা বাকী। অনুনয় করতে থাকলেন ছেড়ে দেয়ার জন্য। অবশেষে পুলিশ বলে আপনার কাছে কত আছে? হাতে খুব বেশী টাকা ছিল না তাই সব স্বর্ণালংকার নিয়ে আসলেন। অন্তত সাত ভরি তো হবেই।


ওসি সাহেব বললেন ঠিক আছে আমাদের কিছু জিজ্ঞাসা আছে ওনার কাছে। জিজ্ঞাসা শেষ হলে ওনাকে ছেড়ে দেব। কাল সকাল সাতটায় দুই লাখ টাকা ক্যাশ নিয়ে আসবেন। স্বর্ণ গুলো রেখে যান। খুব খুশী হলেন মিসেস। এবার অন্তত কারাগারে যেতে হচ্ছে না।


ওসির রুম থেকে বের হয়ে কাস্টোডিতে অধায়পক সাহেব কে দেখতে এসে দেখলেন তিনি নোংরা মেঝেতে একটি পানির বোতলের উপর মাথা রেখে দিব্যি ঘুমাচ্ছেন। গায়ে অজস্র মশা মনের সুখে কামড়াচ্ছে। তিনি ডাক দিয়ে উঠালেন।

- আচ্ছা তোমার কখনোই কোন দুঃচিন্তা হয় না? এমন পরিবেশে কেউ ঘুমাতে পারে?

- (হেসে বললেন) শোন আমি আমার ভাগ্য রবের কাছে ছেড়ে দিয়েছি। তিনি থাকতে আমার চিন্তা কিসের?


এরপর মিসেস নুরুল ইসলাম ওসির সাথে হওয়া সব কথা বললেন তাকে। তিনি তার স্ত্রীকে বললেন কে বলেছে তোমাকে এসব করতে। পুলিশকে বিশ্বাস কুরতে নেই। তুমি সব অলংকার নিয়ে বাসায় যাও। আর তাছাড়া আমি একটু আগে খুব ভালো স্বপ্ন দেখেছি।


৪.

বাকী রাতের মধ্যেই মিসেস নুরুল ইসলাম প্রতিবেশীদের আত্মীয়দের মাধ্যমে টাকা যোগাড় করে ফেললেন। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে অনেক কাঁদলেন আল্লাহর কাছে। সকালে নিজে নাস্তা তৈরী করলেন। যাতে থানা থেকে এসেই অধ্যাপক সাহেব কে নাস্তা দেয়া যায়। তারপর বের হওয়ার আগে TV টা একটু অন করলেন। স্ক্রলে বড় বড় করে লিখা “জামায়াত নেতা অধ্যাপক নুরুল ইসলাম পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত”


মিসেস ইসলাম দৌড়ে গেলেন থানায়, সেখানে মরদেহ নেই। চলে গেছে হাসপাতালে। মর্গের সামনে কিছুক্ষন একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিলেন। তারপর গগনবিদারী চিৎকার করে লাশের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বললেন, আমি! আমি খুন করেছি তোমাকে। আমাকে তুমি ক্ষমা কর নি। সারা জীবনের শাস্তি তুমি দিয়ে গেলে। আমি তোমাকে বাসায় ডেকে এনেছি। বেঁহুশ হয়ে পড়লেন মিসেস।


জানাজা শেষে কবির ছুটে আসলো কফিনের কাছে। ঈমাম সাহেবের কাছ থেকে মাইক নিয়ে বললো, আমরা সবাই স্যার কে চিনি। তিনি যদি সন্ত্রাসী হন তবে পুরো দেশ সাক্ষী থাকো আমি কফিন ছুঁয়ে শপথ নিলাম আমিও স্যারের মত সন্ত্রাসী হলাম।


একে একে হাজার হাজার জনতা সবাই অশ্রুসিক্ত নয়নে শপথ নিল আমরাও স্যারের মত সন্ত্রাসী হয়ে গেলাম। হে পুলিশ, আমাদের গুলি কর। আমরা সবাই মরার জন্য প্রস্তুত।

শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০১৫

দিন দিন বিপ্লবী হয়ে উঠছি


বাবার আদরে হয়েছি বড়ো।
মায়ের শাসন করে জড়ো।
বোনের মিষ্টি আদুরে হাসিতে
পেয়েছি প্রশ্রয় অতি বড়।
না ছিল ক্ষুদা, না ছিল জরা।
না ছিল অভাব, কেবলি সুখের পারা।
কবিতা গল্প উপন্যাস পড়ে কাটিয়েছি দিন।
বিপ্লবী হবো, ভাবিনি কোন দিন।
আমি দেখেছি আশীতিপর বৃদ্ধের কষ্ট
আমি দেখেছি মায়ের কান্না
আমি দেখেছি বোনের আহাজারি
দেখেছি কোর্টের প্রাঙ্গনে বিচারের প্রহসন
নিরাপরাধ শিক্ষককে বানানো হয়েছে
হাজারো নারীর ধর্ষনকারী।
কক্সবাজারে আমি নীল সমুদ্র দেখিনি।
দেখেছি লাল স্রোতধারা
নিজের ছোট দোকানখানা বাঁচাতে
ছুটিয়েছে রক্তের ফোয়ারা।
দেখেছি মায়ের সামনে ছেলেকে
রাষ্টীয় বাহিনীর মার খেয়ে যাওয়া
প্রিয়তমা স্ত্রী থেকে বিদায় না নিয়ে
পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া।
আমি দেখেছি নিরপরাধ একজন মানুষ
যিনি ধীরে ধীরে হেঁটে চলছেন
তুলে নিতে গলায় ফাঁসির দড়ি।
বিবেকের চাপে সব আয়েশ ভুলে
ধীরে ধীরে হয়ে গেলাম এক বিপ্লবী
ভেঙ্গে দিতে সকল শৃঙ্খল, স্বৈরাচারী।

মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৫

মানুষ না, মেশিন

 হে অস্ত্রধারী শিকারী 
তুমি কাকে শিকার করছো? 
কাকে নিশানা করে তুমি চালাচ্ছ গুলি?
তোমার এই উর্দি, এই অস্ত্র
এগুলো তো আমার টাকায় কেনা!!
তোমাকে অস্ত্র দেয়া হয়েছে
তুমি সীমান্ত পাহারা দেবে
বহিঃশত্রুদের মারবে।
অথচ, অথচ তুমি মারছো
তোমার বাবাকে, তোমার মা কে
তোমার ভাইকে তোমার বোন কে।
তোমাকে জিন্দানখানা দেয়া হয়েছে
কথা ছিল তুমি বন্দি করবে
সন্ত্রাসীদের, মাস্তানদের, মদখোরদের
আজ তুমি তাদের দিচ্ছ ছেড়ে
বন্দি করছো মানবতাবাদীদের
বেড়ি নামের লোহার শিকল
পরিয়ে দিচ্ছ সূর্যসন্তানদের পায়ে।
তুমি কাঁদানো গ্যাস ছুঁড়ছো,
পীপার স্প্রে করছো
জাতির বিবেকের চোখে
দেখো, দেখো কি লাল হয়েছে
তাদের সম্ভাবনাময় চোখ।
আমি স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছি
সেই চোখে জাতির সর্বনাশ।
আমি জানি তুমি অসহায়
সামান্য কিছু পাবার আশায়
নাদান পেটকে শান্তিতে রাখার আশায়
তুমি করেছ বিবেক বিসর্জন।
আজ তোমার পা বাকশালের পা
তোমার হাত স্বৈরাচারের হাত
তোমার আঙ্গুল যা দিয়ে ট্রিগার টানো
সেটা ফ্যাসিবাদের আঙ্গুল।
তুমি মানুষ না, মেশিন।

রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৪

১৪ই ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী কারা?


১৯৭১ সালে নিহতদের মধ্যে যারা বুদ্ধিজীবী হিসেবে চিহ্নিত এরকম আছেন প্রায় ৩৬ জন। এদের মধ্যে আঠার জন ১৪ই ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেছেন। বাকীরা এর আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। আর এর পরে বাহাত্তরের ত্রিশে জানুয়ারী হারিয়ে যান জহির রায়হান। 

আসুন নতুন করে জেনে নিই কারা ১৪ই ডিসেম্বরের খুনি। বাংলাদেশে ঘটা করে পালন করা হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। অথচ এই দিন যারা নিহত হলেন তারা কেন নিহত হলেন? কি তাদের রাজনৈতিক পরিচয়? এই খবর আমরা কেউ রাখছি না। 

তাদের কে হত্যা করেছে এটা বলার আগে আমি যারা বাংলাদেশের ইতিহাস রচনা করেছেন তাদের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন রাখতে চাই, 

১. ১৪ই ডিসেম্বর যারা নিহত হলেন মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস তাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা কি ছিল?

২. তারা কি তাদের কর্মস্থলে নিয়মিত গিয়েছিল?

৩. ঢাকা শহর পাকিস্তানীদের নিয়ন্ত্রণে যতদিন ছিল ততদিন কি তারা ঢাকায় লুকিয়ে বা আত্মগোপনে থাকতেন?

৪. তারা ১৪ ই ডিসেম্বরের আগে কি কোন জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেফতারের মুখোমুখি হয়েছেন?

৫. তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কি ছিল?

যারা সত্যের মুখোমুখি হতে চায় না, তারা কখনো এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে যাবেন না। তারা একটা গথবাঁধা গল্প বলবেন। এবং দাবী করবেন এদের আল বদর বাহিনীর সহযোগিতায় পাকিস্তানীরা হত্যা করেছিল।

১ নং প্রশ্নের উত্তর হল, যারা সেদিন নিহত হলেন তারা সবাই পাকিস্তান সমর্থক ছিলেন। অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী নেতৃত্বে ৫৫ জন একটি বিবৃতিতে পাকিস্তানের ঐক্যের পক্ষে তাদের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।
তথ্যসূত্রঃ
১. একাত্তরের ঘাতক ও দালালেরা কে কোথায়?- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশ কেন্দ্র, ফিফথ এডিশান
২. চরমপত্র- এম আর আখতার মুকুল।

২য় প্রশ্নের উত্তর হল তারা নিয়মিত তাদের কর্মস্থলে গিয়েছেন। প্রবাসী সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনামার ১ম দফাই তারা অমান্য করেছেন। এটা শুধু যারা নিহত হয়েছেন তারা নয়, ঢাকা ভার্সিটির সব টিচারই এই নির্দেশ অমান্য করেছেন কারণ তারা সবাই পাকিস্তানপন্থী ছিলেন।

তথ্যসুত্রঃ
১. দুঃসময়ের কথাচিত্র সরাসরি, ড. মাহবুবুল্লাহ ও আফতাব আহমেদ
২. চরমপত্র- এম আর আখতার মুকুল।
৩. প্রধানমন্ত্রী হত্যার ষড়যন্ত্র- কাদের সিদ্দিকী, আমার দেশ ২৭/৯/১১ এবং ১১/১০/১১

৩ নং প্রশ্নের উত্তর হল, যেহেতু তারা প্রতিদিন নিজ নিজ কর্মস্থলে গিয়ে পাকিস্তান সরকারের সেবা করতেন সুতরাং তাদের আত্মগোপনে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

৪ নং প্রশ্নের উত্তর হল, তারা ১৪ই ডিসেম্বরের আগে গ্রেফতার কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ হওয়ার কোন ঘটনা কেউ কোন গ্রন্থে উল্লেখ করেন নি। তাই আমরা ধরে নিতে পারি তারা এরকম ঘটনার মুখোমুখি হন নি। আর যেহেতু তারা পাকিস্তান সমর্থক ছিলেন তাই তারা গ্রেফতার হওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। যুক্তি অন্তত তাই বলে।

৫ নং প্রশ্নের উত্তর, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় হল তারা সবাই পিকিংপন্থী বাম। এর মধ্যে শহীদুল্লাহ কায়সার, মুনীর চৌধুরী নেতাগোচের ছিলেন। পিকিং বা চীনপন্থী বামরা ছিল পাকিস্তানপন্থী।

তথ্যসুত্রঃ
১. একাত্তরের ঘাতক ও দালালেরা কে কোথায়?- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশ কেন্দ্র, ফিফথ এডিশান
২. চরমপত্র এবং
৩. বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ- এম আই হোসেন।

এবার আসুন তাদের কে হত্যা করেছে তা নিয়ে আলোচনায় আসা যাক।

সিপিবি ৩১.০৮.৭১ তারিখে তাদের রাজনৈতিক যে শত্রুর তালিকা করেছে সেখানে বলেছে “মনে রাখতে হইবে চীনের নেতারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করিতেছে ও আমাদের শত্রুদের সাহায্য করিতেছে। দেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী এসব চীনপন্থীদের সম্পর্কে হুশিয়ার থাকিতে হইবে”।
তথ্যসূত্রঃ 
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ- এম আই হোসেন।

যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চলে পিকিংপন্থী কমরেড আব্দুল হক, কমরেড সত্যেন মিত্র, কমরেড বিমল বিশ্বাস ও কমরেড জীবন মুখার্জীর নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনীর বিপক্ষে যুদ্ধ করেন। 
তথ্যসূত্রঃ 
আমি বিজয় দেখেছি, এম আর আখতার মুকুল।

কমিউনিস্টদের মটিভেশন ক্লাসে এরকমও বলা হতো, একজন রাজাকারকে যদি তোমরা ধর, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে, তাকে নানাভাবে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করবে। বারবার করবে এরকম। এতেও যদি কাজ না হয়, প্রয়োজনে শারীরিক নির্যাতনও করবে। যত পারো তথ্য সংগ্রহ করবে এবং পরে কারাগারে নিক্ষেপ করবে। আর যদি কোন চীনপন্থীকে ধর তাহলে সাথে সাথে প্রাণসংহার করবে।
তথ্যসূত্রঃ 
দুঃসময়ের কথাচিত্র সরাসরি, ড. মাহবুবুল্লাহ ও আফতাব আহমেদ।

কাজী জাফর ও রাশেদ খান মেননের দল সহ পিকিংপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা ও কর্মীদের নিধন করা হবে বলে মুজিব বাহিনীর কর্মীরা হুমকি দিয়েছে। এই কারণে তারা পালিয়ে থাকতেন।
তথ্যসূত্রঃ 
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ- ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া।

আমি এখানে যে তথ্যগুলো উপস্থাপন করেছি তাতে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে, যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিচয় ও যারা তাদের শত্রু তাদের পরিচয়। সুতরাং পাকিস্তানীরা তাদের কেন হত্যা করবে এটা আমার মাথায় আসছে না। আমি মনে করি কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের মাথায় তা আসতে পারে না।

আর ১৪ই ডিসেম্বর ঢাকার নিয়ন্ত্রণ কোনভাবেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে ছিল না। রাজাকাররা তো আরো আগেই পালিয়েছে। ১২ ডিসেম্বরের মধ্যেই ঢাকার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। ১৩ তারিখ আত্মসমর্পনের সিদ্ধান্ত হয়। সহজেই অনুমেয়, ১৪ই ডিসেম্বরের কোন হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত হওয়ার ক্ষমতাই ছিল না পাকিস্তানী হানাদারদের।

সমীকরণ খুবই সোজা। “র” নিয়ন্ত্রিত মুজিব বাহিনীই সংঘটিত করেছে এই নিষ্ঠুর হত্যাকান্ডের। পাকিস্তানের সমর্থক ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী ঐসব বুদ্ধিজীবী বামপন্থী নেতাদের হত্যা করতে সহযোগীতা করেছে রুশপন্থী বামেরা। এখানেই শেষ নয়। একে একে সকল পাকিস্তানপন্থীদের তারা হত্যা করে।তারা গণহত্যা চালায় বিহারী ক্যম্পে ও মসজিদে মসজিদে। পরে এই মুজিব বাহিনীর সাথে ধ্বংসযজ্ঞে যোগ দেয় কাদের সিদ্দীকী। 
তথ্যসূত্রঃ
১. দ্যা ডেড রেকনিং, শর্মিলা বসু।
২. অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা, মেজর এম এ জলিল।
৩. বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ, এম আই হোসেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যাতে পিকিংপন্থী কম্যুনিজম এ দেশে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে সে পরিকল্পনা আগেই প্রণয়ন করে RAW এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছে। অর্থাৎ প্রথমত পিকিংপন্থী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে মাওবাদী কম্যুনিজমের উত্থানকে রোধ করেছে। দ্বিতীয়ত এর দায়দায়িত্ব রাজাকার আল-বদরদের উপর চাপিয়ে ইতিহাসে পরিষ্কার থেকেছে।

বুধবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১২

ফররুখ কর বিশ্রাম

কবি ফররুখ এবার কর তুমি বিশ্রাম,
পাঞ্জেরিকে ডাকতে হবেনা ফেলে ঘাম।
ফররুখ এবার দাও তুমি আরামের ঘুম।
ফেরদাঊসের মাটিকে দিয়ে চুম।
পাঞ্জেরিকে নিয়ে করোনা আর
দুঃখ কিংবা অযথা দুশ্চিন্তা।
পাঞ্জেরি মোদের এসে গেছে
দেখিয়ে দিয়েছে রাস্তা।
ঐ দেখ সাঈদী হাঁটে নির্ভিক পদে,
হাতে আল্লাহ্‌র কালাম লয়ে।
গোলাম আযম আজও জেলে,
এই অশীতিপর বয়সে।
মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, নিজামী,
আরো আছে সেই সারিতে
কাদের মোল্লা, কাশেম আলী।
দীপ্ত পায়ে তাদের পথে হাঁটি।
এবার ফররুখ কর বিশ্রাম।
বিপ্লবের প্রহর গুণতে গুণতে,
আর ফেলতে হবে না
অনেক সাধের রক্তঘাম।।