কিছু মানুষের জন্মই হয় হিরো হওয়ার জন্য। পাঞ্জেরী হওয়ার জন্য। তাদের দিকে তাকিয়ে মানুষ আগুনে ঝাঁপ দিতেও কার্পন্য করেনা। এদের পুরো জীবনটাই সাক্ষী হয়ে থাকে মানবজাতির জন্য। এরা শহীদ, সাক্ষ্যদাতা। জীবনের প্রতিটি কাজে ইসলামের সাক্ষ্য দেয়াই ওনাদের কাজ।
এমন একজন কিংবদন্তি মানুষ অধ্যাপক গোলাম আযম। ৭১ সালের বাম-রামদের যৌথপ্রজেক্ট বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হলে অনেকে মনে করেছে এদেশে ইসলামী আন্দোলন আর কোনদিন দাঁড়াতে পারবে না। মনে বল নিয়ে বিদেশে থেকেও আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে গিয়েছেন। একের পর এক ষড়যন্ত্রের মুখে ছিলে অবিচল, নিঃসংকোচ, নিরুদ্বিগ্ন। মহান রবের প্রতি অবিচল আস্থায় যেকোন পরিস্থিতে শান্ত থাকার অনুপ্রেরণা তিনি।
তিনি এমন এক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে গিয়েছেন যেখানে দুনিয়াবী কোন স্বার্থ পাওয়া যায়না। যে দেশে রাজনীতি একটি লাভজনক ব্যবসা সে দেশে তিনি মানুষকে পকেট থেকে টাকা বের করে সমাজের উপকার করার রাজনীতি শিখিয়েছেন। তিল তিল করে কঠিন সময়গুলো পার করে আজ এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। যুদ্ধাপরাধ বিচারের নামে ওনাকে হত্যা করার পাঁয়তারার সময় গ্রেপ্তারের প্রাক্কালে সাংবাদিকরা যখন জিজ্ঞাসা করেছিল আপনার ভয় করছে না? তিনি জবাব দিলেন, তিনি জবাব দিলেন,ভয়? ভয় কিসের? ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হিসেবে শাহাদাতের কামনা করেছি সারা জীবন...আর অন্যায়ভাবে যদি মৃত্যু দেয়া হয় শহীদ হওয়ার গৌরব পাওয়া যায়... আল্লাহকে ছাড়া কাউকে "ভয় করাতো জায়েজই নাই,আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করার অনুমতি নাই।"
গতবছরের এমন দিনে একটি দুইদিনের প্রশিক্ষনের শেষ দিন ছিল। যখন খবর পেলাম আমাদের ইমাম আর নেই তখন নিজেকে ধরে রাখাটা খুব কষ্টকর হচ্ছিল। যদিও জানি সবাইকে মৃত্যুবরণ করতে হয়। তারপরও যেন মানতে পারছিলাম না। বার বার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছিলো না, কখনো না, গোলাম আযম মরতে পারেনা। এক অর্থে গোলাম আযমদের মৃত্যু নেই। তাঁরা শহীদ। শহীদের মৃত্যু হয়না। আমরা তা সহজে বুঝতে পারিনা। শুধু তাই নয়, আল্লাহ তায়ালা আরো বলেছেন শহীদেরা আল্লাহর পক্ষ থেকে রিযিক প্রাপ্ত হন। হে আল্লাহ তুমি আমাদের ইমামকে শহীদ হিসেবে কবুল করে নাও।
জুমুয়ার নামাজের পর চট্টগ্রামের প্যারেড মাঠে জানাজার নামাজে শুধু চোখ দিয়ে পানি ঝরছিলো। বক্তারা কি বলছিলো এগুলো কোন কিছুই আমার মাথায় ঢুকেনি। আমি কেবলই চোখ মুছেছি। যতবারই চোখ মুছি আবারো চোখ ঝাপসা হয়ে যায়। এরপর হাল ছেড়ে দিয়েছি। অবিরল ধারায় ঝরে পড়া অশ্রুকে পড়তে দিয়েছি। আজও যখন পোস্টটা লিখছি বার বার ল্যাপটপের স্ক্রীন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। ওগো মাবুদ তুমি আমার ইমামকে, আমার হিরোকে, আমার পাঞ্জেরীকে, আমার আমীরকে তোমার মেহমানকে শান্তিতে রাখো। আমি জানি তুমি উত্তম মেহমানদার। তোমার সেরা গোলাম "গোলামে আযমকে" পুরষ্কিত করো। আমীন







0 মন্তব্য(গুলি):
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন